কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋত্বিক ঘটকের সিনেমা সংরক্ষণে বড় সাফল্য অর্জন করেছে ভারতের ন্যাশনাল ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (এনএফডিসি) ও ন্যাশনাল ফিল্ম আর্কাইভ অব ইন্ডিয়া (এনএফএআই)। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তার ৮টি কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘প্রিসটিন-৪কে’ রেজল্যুশনে পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সংরক্ষিত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘যুক্তি তক্কো আর গপ্পো’, ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’, ‘সুবর্ণরেখা’, ‘নাগরিক’, ‘অযান্ত্রিক’ এবং ‘কোমল গান্ধার’।
ঋত্বিক ঘটকের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এই অর্জনকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় লন্ডনে আয়োজন করা হচ্ছে বিশেষ রেট্রোস্পেকটিভ। ‘রেভল্যুশনারি সিনেমা: দ্য প্যাশন অব ঋত্বিক ঘটক’ শীর্ষক এই আয়োজনের মাধ্যমে তার সংরক্ষিত ৮টি চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে প্রদর্শন করা হবে।
ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরিচালিত ন্যাশনাল ফিল্ম হেরিটেজ মিশনের অংশ হিসেবে এই পুনরুদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের দাবি, দেশের অডিও-ভিজ্যুয়াল ঐতিহ্য রক্ষায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
চলচ্চিত্রগুলোর মূল নান্দনিকতা অক্ষুণ্ন রেখে ‘কালার গ্রেডিং’ তদারকি করেছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রগ্রাহক অভীক মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ঋত্বিক ঘটকের সিনেমা পুনরুদ্ধার প্রকল্পে যুক্ত হতে পেরে তিনি গর্বিত। এই কাজ তাকে নির্মাতার শিল্পভুবনকে আরও কাছ থেকে দেখার সুযোগ দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রভাবশালী নির্মাতা ঋত্বিক ঘটকের সৃষ্টি নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষিত হওয়ায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তার কাজ আরও উন্নত মানে উপভোগ করতে পারবে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।





