বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীতকে নতুনভাবে দর্শকের সামনে তুলে ধরতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আই নিয়ে আসছে ফোক গানের নতুন আয়োজন ‘আই ফোক ফিভার’। লোকসংগীতের আবহে সাজানো এই অনুষ্ঠানটিতে একসঙ্গে অংশ নিচ্ছেন সংগীতের বরেণ্য শিল্পী এবং নতুন প্রজন্মের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীরা। মোট ২৩ পর্বে নির্মিত এই অনুষ্ঠানটি শিগগিরই চ্যানেল আইয়ের পর্দায় প্রচার হবে।
আয়োজকরা বলছেন, লোকসংগীতের শিকড় ও সৌন্দর্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতেই এই আয়োজন।
গত সোমবার দুপুরে চ্যানেল আই স্টুডিওতে অনুষ্ঠিত হয় প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনের পর্বের রেকর্ডিং। এ পর্বে তিনি পাঁচটি জনপ্রিয় ফোক গান পরিবেশন করেছেন। দীর্ঘ সংগীতজীবনে অসংখ্য আধুনিক, চলচ্চিত্র ও দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার পাশাপাশি লোকসংগীতও তিনি নিয়মিত গেয়ে থাকেন। তবে একসঙ্গে এতগুলো লোকগান নিয়ে কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তার জন্যও বেশ আনন্দের।
রেকর্ডিং শেষে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘সিনেমা, নাটক কিংবা বিভিন্ন টক-শোর পাশাপাশি চ্যানেল আই সবসময়ই গানের অনুষ্ঠানকে নানাভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকে। পল্লিগীতি ও লোকসংগীত তো আমাদের মাটির গান, আমাদের সংস্কৃতির প্রাণ। এর আগে কখনও একটি অনুষ্ঠানে একসঙ্গে এতগুলো ফোক গান গাওয়া হয়নি। আমি পাঁচটি গান করেছি। সব গান গাওয়ার সময় দারুণ উপভোগ করেছি। এমন আয়োজন করার জন্য চ্যানেল আইকে ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে জাহাঙ্গীর সাঈদ আমাকে ডাকার পর খুবই খুশি হয়েছি।’
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে অংশ নিয়েছেন কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলম, খুরশীদ আলম, কনকচাঁপা, ফেরদৌস আরা, সালমা, লিজা, লুইফা, সাগর দেওয়ান, আলেয়া বয়াতি, আক্কাস দেওয়ান, কাজল দেওয়ান, ঝিলিক, মুক্তা সরকার, পারভেজ, আশিক, আকাশ মাহমুদ, নকুল কুমার বিশ্বাসসহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেছেন ইফতেখার মুনিম আহসান এবং পরিকল্পনা করেছেন জাহাঙ্গীর সাঈদ।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া আরেক বরেণ্য শিল্পী ফেরদৌস আরা বলেন, ‘লোকসংগীত আমাদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত। এই গানগুলোতে আছে মানুষের জীবন, সুখ-দুঃখ, প্রেম ও প্রকৃতির গল্প। নতুন প্রজন্মকে যদি এই গানগুলোর সঙ্গে আরও যুক্ত করা যায়, তাহলে আমাদের সংগীত ঐতিহ্য আরও শক্তভাবে টিকে থাকবে। চ্যানেল আই এমন উদ্যোগ নেওয়ায় আমি সত্যিই আনন্দিত।’
নন্দিত সংগীতশিল্পী রফিকুল আলমও এই আয়োজনকে সময়োপযোগী বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ‘লোকসংগীতের ভান্ডার আমাদের দেশে অসাধারণ সমৃদ্ধ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক গানই হারিয়ে যেতে বসেছে। টেলিভিশনের মাধ্যমে যদি এই গানগুলো নতুনভাবে পরিবেশন করা হয়, তাহলে দর্শকের কাছে আবারও তা পৌঁছে যাবে। এ কারণেই চ্যানেল আই এ উদ্যোগ নিয়েছে।’
একই কথা বলেন খুরশীদ আলমও। তাঁর ভাষায়, ‘লোকগান শুধু বিনোদন নয়, এটি আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশ। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের সঙ্গে এক মঞ্চে এই গান গাওয়ার সুযোগ পাওয়া সত্যিই আনন্দের। আশা করছি আয়োজনটি ভালো হবে।’
অনুষ্ঠান-সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, চ্যানেল আইয়ের এই উদ্যোগ বাংলার লোকসংগীতকে আরও বিস্তৃতভাবে প্রচার করবে এবং সমৃদ্ধ এই ধারার গান নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।





