কর্ণাটকের উপকূলবর্তী অঞ্চলে শতাব্দী প্রাচীন এক পবিত্র লোকসংস্কৃতি হলো ‘চৌভুন্ডি দৈব্য’। স্থানীয়দের কাছে এটি শুধু একটি আচার নয়, বরং তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, আধ্যাত্মিকতা ও জীবনবোধের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশেষ করে কর্ণাটকের তুলুনাডু অঞ্চলে দৈব্য আরাধনা মানেই হলো, দেবতা ও মানুষের মধ্যকার এক গভীর আত্মিক সংযোগ, যেখানে দেবতা কোনো কল্পিত চরিত্র নয়, তিনি জীবন্ত বিশ্বাস।
এই প্রেক্ষাপটেই সম্প্রতি বলিউড অভিনেতা রণবীর সিংয়ের একটি আসন্ন ছবির দৃশ্য ও ভিজ্যুয়াল উপস্থাপন নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ছবির একটি চরিত্রের পোশাক, মেকআপ ও আচরণ চৌভুন্ডি দৈব্য সংস্কৃতির সঙ্গে আশ্চর্যজনকভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ।
স্থানীয় সংস্কৃতিবিদ ও ধর্মীয় অনুসারীদের দাবি, এই উপস্থাপনাকে যথাযথ প্রেক্ষাপট ও শ্রদ্ধা ছাড়াই ব্যবহার করা হয়েছে, যা তাদের বিশ্বাসে আঘাত করেছে।
অভিযোগকারীরা জানান, চৌভুন্ডি দৈব্য কোনো বিনোদনমূলক উপাদান নয়। এটি নির্দিষ্ট নিয়ম, শুদ্ধাচার ও ধর্মীয় শুদ্ধতার সঙ্গে পালিত হয়। দৈব্যের পোশাক, মুখোশ, নৃত্যভঙ্গি ও ভাষা-সবকিছুরই গভীর ধর্মীয় তাৎপর্য রয়েছে। সেই সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি যদি বাণিজ্যিক ছবিতে বিকৃতভাবে বা ভিন্ন অর্থে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা শুধু সংস্কৃতির অবমাননাই নয়, ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত হানে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ছবির নির্মাতারা এই সংস্কৃতি ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করেননি। ফলে একে অনেকে দেখছেন সাংস্কৃতিক দখলদারিত্ব হিসেবেও।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্ণাটকের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এবং ছবির নির্মাতাদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা ও ক্ষমা দাবি করছেন।



