Monday, March 2, 2026
spot_imgspot_img

Top 5 This Week

spot_img

Related Posts

এপস্টেইন ফাইলস : আলোচনায় নেটফ্লিক্সের যেসব সিরিজ

গ্ল্যামার, ক্ষমতা আর অগাধ সম্পদের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক পৈশাচিক অধ্যায়। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন গড়ে তুলেছিলেন এক নারকীয় সাম্রাজ্য। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলসের নথি প্রকাশ হওয়ার পরে পুরো বিশ্বে এটি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। যে তালিকায় রয়েছেন রথী-মহারথী রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, লেখক থেকে শুরু করে অভিনেতারাও। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

প্রকাশিত নথিতে নাম এসেছে ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রাক্তন প্রিন্স অ্যান্ড্রু থেকে শুরু করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইলন মাস্ক, বিল গেটস। তবে চমক এখানেই শেষ নয়, এই তালিকায় নাম জড়িয়েছে তাত্ত্বিক পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং এবং পপ সম্রাট মাইকেল জ্যাকসনেরও।

যদিও জ্যাকসন বা হকিংয়ের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মেলেনি, তবুও এপস্টেইনের মতো একজন দণ্ডিত অপরাধীর ব্যক্তিগত দ্বীপ বা প্রাসাদে তাদের উপস্থিতি নতুন করে প্রশ্ন তুলছে- পর্দার আড়ালে ঠিক কী ঘটেছিল?

‘জেফরি এপস্টিন: ফিলথি রিচ’

নেটফ্লিক্সের আলোচিত ডকুমেন্টারি সিরিজ ‘জেফরি এপস্টিন: ফিলথি রিচ’-এ এবার সেই রুদ্ধশ্বাস ও লোমহর্ষক সত্যগুলোই সামনে এসেছে। এই সিরিজের মূল চালিকাশক্তি হলো সেই সব সাহসী নারীরা, যারা এক সময় এপস্টিনের লালসার শিকার হয়েছিলেন।

তারা জানিয়েছেন, কীভাবে কেবল অর্থের দাপটে তাদের জীবন বিষিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সিরিজটিতে উঠে এসেছে সেই সব নিপুণ কারসাজির কথা, যার মাধ্যমে অল্পবয়সী মেয়েদের মগজ ধোলাই করে তাদের ওপর চালানো হতো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

‘আইজ ওয়াইড শাট’

এপস্টেইন ফাইলস প্রকাশের পর নেটিজেনদের বড় একটি অংশ ফিরে তাকাচ্ছেন ১৯৯৯ সালে। কিংবদন্তি নির্মাতা স্ট্যানলি কুবরিকের শেষ চলচ্চিত্র ‘আইজ ওয়াইড শাট’ যেন আজ দিবালোকের মতো সত্য হয়ে ধরা দিচ্ছে। সিনেমাটিতে ডক্টর বিল হারফোর্ডের (টম ক্রুজ) মাধ্যমে কুবরিক দেখিয়েছিলেন উচ্চবিত্তদের এক গোপন জগত, যেখানে মুখোশধারী অভিজাতরা লিপ্ত হয় বিকৃত সব যৌনাচারে।

সিনেমাটি মুক্তির মাত্র ৬ দিন আগে কুবরিকের আকস্মিক মৃত্যু হয়। শোনা যায়, স্টুডিওর কাঁচিতে কাটা পড়েছিল সিনেমার প্রায় ২৪ মিনিটের ফুটেজ। ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিকদের দাবি, সেই বাদ পড়া অংশে এমন কিছু ছিল যা তৎকালীন প্রভাবশালী এলিটদের ভিত নাড়িয়ে দিত। আজ এপস্টেইনের দ্বীপের কর্মকাণ্ড সেই সিনেমার কাল্পনিক দৃশ্যগুলোকেও হার মানাচ্ছে।

গ্যাব্রিয়েলা রিকো জিমেনেজ

২০০৯ সালের ৩ আগস্ট মেক্সিকোর মন্টেরিতে ফিস্তা ইন হোটেলের সামনে একটি ঘটনা ঘটে যা একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম রহস্যময় ষড়যন্ত্র তত্ত্বে পরিণত হয়। ২১ বছর বয়সী মডেল গ্যাব্রিয়েলা রিকো জিমেনেজ হোটেলের সামনে উন্মত্ত অবস্থায় চিৎকার করে বলতে থাকেন যে, ‘তারা মানুষকে খাচ্ছে, তারা শিশুদের খাচ্ছে’।

তিনি সরাসরি বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের এবং বিশেষ করে ‘জর্জ বুশ’ পরিবারের মতো প্রভাবশালীদের নাম ধরে চিৎকার করেন। পুলিশ তাকে আটক করার পর তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ হিসেবে ঘোষিত হন এবং পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান ।

‘দ্য ইনোসেন্ট’

নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘দ্য ইনোসেন্ট’ যেন এপস্টেইন বা কুবরিকের গল্পেরই একটি আধুনিক সংস্করণ। এলিটদের সেক্স ক্লাব, গোপন রেকর্ডিং এবং বিচার ব্যবস্থাকে পকেটে পুরে রাখার যে চিত্র সেখানে ফুটে উঠেছে, তার সঙ্গে বাস্তব জগতের এপস্টেইন নেটওয়ার্কের অদ্ভুত মিল খুঁজে পাচ্ছেন দর্শকরা।

ক্ষমতার শীর্ষে থাকা ব্যক্তিরা কি তবে আইনের ঊর্ধ্বে? নাকি কুবরিকের মতো আরও অনেক শিল্পী তাদের কাজের মাধ্যমে আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে যাবেন এই বাস্তবতা?

Popular Articles