প্রেম, সম্পর্ক আর ব্যক্তিগত জীবন এই বিষয়গুলোতে রাখঢাক করতে নারাজ অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জি। বরাবরের মতোই সোজাসাপ্টা ভাষায় নিজের অবস্থান জানিয়ে আবারও আলোচনায় এলেন এই ঠোঁটকাটা অভিনেত্রী। ভারতীয় এক গণমাধ্যমে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে স্বস্তিকা অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি বর্তমানে প্রেম করছেন তাও একাধিক মানুষের সঙ্গে।
সাক্ষাৎকারে স্বস্তিকা বলেন, ‘এখন শীতের মৌসুম, প্রেমের মৌসুম। আমি কেন প্রেমবিহীন জীবন কাটাব? তবে আমি এখন খুব চালাক হয়ে গিয়েছি। কেউ ধরতে পারবে না আমি কার সঙ্গে প্রেম করছি। আর প্রেম একজনের সঙ্গেই করতে হবে এমন কোনো নিয়ম তো নেই, দু-তিনজনের সঙ্গেও প্রেম করা যায়।’
প্রেমিকদের পরিচয় গোপন রাখার ক্ষেত্রেও বেশ কৌশলী এই অভিনেত্রী। তার ভাষায়, ‘আমি এখন একসঙ্গে তিন-চারজনের সঙ্গে বের হই। ফলে কেউ বুঝতে পারে না আমি কার সঙ্গে প্রেম করছি। আর আমি খুব ব্যস্ত মানুষ তাই যখন ফাঁকা থাকি যার সঙ্গে সময় মেলে তার সঙ্গেই বেরিয়ে পড়ি।’
প্রেম মানেই আজীবনের দায় এই ধারণাতেও বিশ্বাসী নন স্বস্তিকা। তিনি মনে করেন, বন্ধুত্বপূর্ণ প্রেমও হতে পারে সুস্থ সম্পর্কের ভিত্তি। অভিনেত্রীর কথায়, ‘প্রেম মানেই যে সারাজীবন একসঙ্গে থাকতে হবে তা নয়। বন্ধুত্বপূর্ণ প্রেমে মন ভালো থাকে। তবে আমি কার সঙ্গে প্রেম করছি সেটা কেউ জানবে না।’
স্বস্তিকার ব্যক্তিগত জীবন বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রে। অতীতে টলিউডের একাধিক তারকার সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে এসেছে। এই তালিকায় রয়েছেন জিৎ, সৃজিত মুখার্জি, পরমব্রত চ্যাটার্জির মতো নাম। স্বস্তিকার জীবনের প্রথম প্রেমিক ছিলেন অভিনেতা জিৎ যার ভালোবাসা আজও তার স্মৃতিতে অমলিন বলে একাধিকবার জানিয়েছেন তিনি নিজেই।
১৯৯৮ সালে জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী সাগর সেনের ছেলে প্রমিত সেনকে বাবা-মায়ের পছন্দে বিয়ে করেন স্বস্তিকা মুখার্জি। তবে সেই সংসার টেকেনি। দুই বছরের মাথায় ছন্দপতন ঘটে দাম্পত্য জীবনে। ২০০০ সালে কন্যা অন্বেষাকে কোলে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি ছাড়েন তিনি এবং একই বছর বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেন। যদিও কাগজে-কলমে সেই বিচ্ছেদ আজও সম্পন্ন হয়নি। এরপর থেকেই একক মা হিসেবে মেয়েকে বড় করেছেন স্বস্তিকা।
চলচ্চিত্রে স্বস্তিকার পথচলা শুরু হয় ২০০৩ সালে ‘হেমন্তের পাখি’ সিনেমার মাধ্যমে। ২০০৪ সালে ‘মাস্তান’ সিনেমাতে প্রথমবার নায়িকা হিসেবে দেখা যায় তাকে যেখানে তার সহ-অভিনেতা ছিলেন জিৎ। এই সিনেমার শুটিং সেটেই গড়ে ওঠে তাদের বন্ধুত্ব ও প্রেম। একসময় টলিউডের নানা পার্টি ও প্রিমিয়ারে একসঙ্গে দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্কও টেকেনি।
প্রেম, সম্পর্ক আর জীবন নিয়ে স্বস্তিকার এই খোলামেলা বক্তব্য আবারও প্রমাণ করে নিজের শর্তেই বাঁচতে ভালোবাসেন তিনি আর তা প্রকাশ্যে বলতে একটুও দ্বিধা করেন না।



