অরিজিৎ সিং প্লেব্যাক দুনিয়াকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দিতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। মঙ্গলবার রাতে গায়কের সেই পোস্ট নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা সংগীতাঙ্গন। এমন সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই বলিউডের বহু সঙ্গীতশিল্পী আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। তবে অরিজিতের এই সিদ্ধান্তে মন খারাপ না করে বরং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েছেন বলিউডের প্লেব্যাক সম্রাজ্ঞী শ্রেয়া ঘোষাল।
পশ্চিমবঙ্গের এই দুই সন্তান শ্রেয়া ঘোষাল ও অরিজিৎ সিং গত কয়েক বছর ধরে প্লেব্যাক দুনিয়ায় শীর্ষস্থান দখল করে আছেন, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বলিউড হোক কিংবা বাংলা সিনেমা, একাধিক গানে একসঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন তারা। তাই অরিজিতের প্লেব্যাক ছাড়ার সিদ্ধান্তে শ্রেয়ার প্রতিক্রিয়া কী- তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই শ্রোতামহলে কৌতূহল তৈরি হয়। অবশেষে সহশিল্পীকে নিয়ে মুখ খুললেন শ্রেয়া।
শ্রেয়ার ভাষায়, ‘এটা অরিজিৎ সিংয়ের জন্য এক নতুন সূচনা। তাই ওর নতুন কাজ শোনার জন্য আমি অধীর অপেক্ষায় রয়েছি। আমি সত্যিই খুব উত্তেজিত। তবে এই বিষয়টিকে এক অধ্যায়ের অবসান বলতে আমি রাজি নই। কারণ, অরিজিতের মতো একজন শিল্পীকে কখনোই চেনা গণ্ডির মধ্যে বেঁধে রাখা উচিত নয়।’
নতুন ইনিংসের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়ে শ্রেয়া ঘোষাল আরও বলেন, ‘প্রিয় অরিজিৎ, এটা তোমার গর্জে ওঠার সময়।’
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে অনুরাগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অরিজিৎ লেখেন, ‘সবাইকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা। গত কয়েক বছর ধরে শ্রোতা হিসেবে আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আজ জানাচ্ছি, প্লেব্যাক ভোকালিস্ট হিসেবে আমি আর কোনো নতুন কাজ গ্রহণ করব না। এখানেই আমি শেষ করছি। এটি ছিল এক অসাধারণ সফর।’
কেবল একটি কারণই যে অরিজিতের এমন সিদ্ধান্ত তা নয়। একাধিক কারণ রয়েছে তার এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেপথ্যে।
অরিজিৎ বলেন, ‘এর একটি কারণ বেশ সহজবোধ্য। আমি খুব দ্রুত আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। আর এই কারণেই আমি আমার গানের সুরের বিন্যাস ঘনঘন পরিবর্তন করি। এবং সেগুলোকে লাইভে পরিবেশন করি। সুতরাং এটাই সত্যি, আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। নিজেকে বিকশিত করতেই আমার ভিন্ন ধরনের সংগীত অন্বেষণ করা প্রয়োজন। এছাড়া আমি চাই নতুন কণ্ঠ উঠে আসুক। কোনো নতুন গায়ক আমাকে অনুপ্রাণিত করুক, এই উত্তেজনাই এখন বেশি টানে।’
সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস ও সংবাদ প্রতিদিন



